শেষ পর্বের ইজতেমা: জুমার নামাজে অংশ নিতে মুসল্লিদের ঢল -

শেষ পর্বের ইজতেমা: জুমার নামাজে অংশ নিতে মুসল্লিদের ঢল

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে তাবলিগ জামাতের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তিনদিনের এ পর্বের ইজতেমায় এখন চলছে শীর্ষ মুরব্বিদের ঈমান ও আমলের বয়ান। জুমার নামাজে অংশ নিতে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটছেন লাখো মুসল্লি।

শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা চেরাগ আলী। তার বয়ানের তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা আশরাফ আলী। পর্যায়ক্রমে চলছে তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিদের বয়ান।

শেষ পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে মঙ্গলবার থেকে ৬৪ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইজতেমার মূল ময়দানে কানায় কনায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় স্রোতের মতো মুসল্লিরা আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনায় অবস্থান নিয়েছেন।

জুমার নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লিরা জায়নামাজ বিছিয়ে বয়ান শুনছেন, আল্লাহর নামে জিকির করছেন। এখনো দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমার সর্ববৃহৎ জুমার নামাজের জামাতে অংশ নিতে তুরাগতীরের দিকে ছুটছেন। রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এ পর্বের ইজতেমায় ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সা’দ কান্ধলভির অনুসারীরা অংশ নিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের ইজতেমায় আসেননি তিনি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও থাকছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‍্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় আট হাজার সদস্য। পুরো ইজতেমা ময়দানজুড়ে সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও মেটাল ডিটেক্টরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তা বলয় থাকবে ইজতেমা মাঠ ও মাঠের বাইরে।’

এর আগে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব গত ১০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের এর অনুসারীরা এতে অংশ নেন।

১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে বিশ্ব ইজতেমা প্রথমবারের মতো আয়োজন হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে এবং ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে করার জন্য ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে এখন যেখানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *