ক্যাসিনোকাণ্ডে দুই ভাই এনু-রুপন গ্রেপ্তার -

ক্যাসিনোকাণ্ডে দুই ভাই এনু-রুপন গ্রেপ্তার

ক্যাসিনোর টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়া রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু, তার ভাই একই কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইড)।

পুলিশের সিআইডি বিভাগ সোমবার কেরানীগঞ্জ (১৩ জানুয়ারি) তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় নগদ ৪০ লাখ টাকা, ১২টি মোবাইল ফোন, ২২টি জমির দলিলপত্র এবং ১৯ কোটি টাকার ব্যাংকের কাগজপত্র উদ্ধার করে।সিআইডির ডিআইজি (অর্গাইজড ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান।

গত বছর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা দুই ভাই পলাতক ছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এবং তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ার (পুরান ঢাকা ৩১ নম্বর বানিয়ানগর) বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং ৭৩০ ভরি সোনা উদ্ধার করে র‌্যাব।

এর পর ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গেণ্ডারিয়া থানায় দুটি আলাদা মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একাধিক বার অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। অবশেষে সোমবার ধরা পড়লেন আলোচিত এ দুই ভাই।

অভিযান ‍শুরুর পর প্রথমে তারা কক্সবাজার যান। মিয়ানমার অথবা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। না পেরে তারা কেরাণীগঞ্জে চলে আসেন। তাদের কর্মচারীর বাসায় তারা এতদিন অবস্থান করছিলেন। তাদের কাছে ৪৬ লাখ টাকা ছিল। এই টাকা দিয়ে তারা ভুয়া পাসপোর্ট করে ভারত হয়ে অন্য দেশে যেতে চেয়েছিলেন।

সিআইডি জানায়, আদালতে পাঠিয়ে তাদের রিমান্ডে আনা হবে। তদন্তে নতুন ডাইমেনশন আসবে। এদের পেছনে কারা হোতা ছিল তা বেরিয়ে আসবে। মূলত নেপালিদের মাধ্যমে তারা ক্যাসিনোর আধুনিক সরঞ্জাম ঢাকায় নিয়ে আসে। তাদের যত সম্পত্তি, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি সবই ব্ল্যাক মানির মাধ্যমে অর্জন করা।

‘মমিনুল হক সাঈদ ক্যাসিনো কাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না’ জানতে চাইলে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সাঈদের নামে সিআইডিতে মানি লন্ডারিং মামলা নেই। তদন্ত চলছে। যদি কখনও নাম আসে তাহলে আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *